গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি এলে কী করবেন? – ডা. ফাহমিদা তুলি

গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি আসার ব্যাপারটা স্বাভাবিক। সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বার এ সমস্যা হয়ে থাকে। স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণেই এমন হয়। গর্ভাবস্থায় হরমোন এবং শিশুর বৃদ্ধির কারণে রক্তনালির ওপর ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমতে থাকে।

এ পানি শরীরের যেকোনো অংশেই জমতে পারে। তবে সাধারণত পায়ে ও গোড়ালিতে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। সাধারণত সকালের দিকে বেশি পানি জমে থাকে এবং দিনের কর্মব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমতে থাকে। পানি জমা নিয়ে ভয়ের তেমন কিছু নেই। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ধীরে ধীরে এ সমস্যা কমে যায়।

গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি এলে প্রতিকার

  •  বাম দিকে কাত হয়ে শোবেন।
  • শোয়ার সময় পায়ের নিচে একটা বালিশ রাখুন।
  • স্বাভাবিক কাজকর্ম করুন। তবে খুব বেশিক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকবেন না।
  • বসে কাজ করতে হলেও কিছুক্ষণ পরপরই একটু উঠে দাঁড়ান, খানিকটা ঘোরাফেরা করুন। একটানা একইভাবে বসে থাকবেন না
  • আঁটসাঁট পোশাক পরবেন না।
  • নরম এবং সহনীয় ধরনের জুতা পরা ভালো।
  • স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করবেন।
  • পানি খাবেন পরিমিত পরিমাণে, শরীরে বেশি পানি জমা হচ্ছে ভেবে পানি কম খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
হঠাৎ শরীরে খুব বেশি পানি এলে, পানি জমে জমে ত্বকে শক্ত ভাব চলে আসতে থাকলে, পানি জমার স্থানে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কখনো কখনো এগুলো গর্ভকালীন জটিলতার লক্ষণও হতে পারে। তবে প্রস্রাবে সংক্রমণ কিংবা উচ্চরক্তচাপ না হয়ে থাকলে পানি জমা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তাই অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিন্ত হোন।

যেকোনো জটিলতা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান, এতে এ ধরনের জটিলতার ভয় একেবারেই কেটে যাবে।