ফেসবুকের ফেইক আইডি থেকে সাবধান!

তথ্য প্রযুক্তির এই আধুনিক সভ্যতায় ফেসবুক সব শ্রেণির মানুষের জীবন ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক ব্যবহারে যেমন রয়েছে বহুবিদ সুবিধা, তেমনি রয়েছে কিছু সমস্যাও। ফেসবুকের অন্যতম সমস্যার মধ্যে রয়েছে ফেক আইডি। ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম, প্রতারণা, অবশেষে আত্মহত্যা। এমন ঘটনা এখন প্রায়ই শোনা যায়। ফেক প্রোফাইলের আড়ালে অপরাধমূলক কাজও হচ্ছে বর্তমানে এ জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার প্রতিশোধ স্পৃহার বশেও অনেকে তৈরি করেন ফেক প্রোফাইল। সতর্ক থাকুন। বোঝার চেষ্টা করুন, ফেক প্রোফাইল কিনা ?

১। অচেনা কাউকে বন্ধু করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুনঃ ফ্রেন্ড লিস্টে বন্ধু সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় হুটহাট কাউকে অ্যাড করবেন না। অচেনা রিকোয়েস্ট এলে প্রশ্ন করুন। জানতে চান তিনি কেন আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠালেন। উত্তর শুনে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তবেই অ্যাকসেপ্ট করুন।

২। প্রোফাইল ভাল করে পড়ুনঃ কী করেন, কোথায় থাকেন, কোথায় পড়াশোনা করেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য আছে কিনা দেখুন। কোনও সংস্থার নাম বা ইউনিভার্সিটির নাম নিয়ে সন্দেহ হলে গুগলে খুঁটিয়ে দেখুন। বয়স খুব অল্প অথচ নিজেকে প্রফেসর বা সিইও বলছেন, এমন মানুষ ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে অবশ্যই ভেবে দেখবেন। প্রোফাইল আকর্ষণীয় করতে এরা অনেক কিছু করে থাকেন।

৩। ফ্রেন্ড লিস্ট খুঁটিয়ে দেখুনঃ বন্ধুরা কি বেশির ভাগ স্থানীয়? নাকি বেশির ভাগই বিদেশি? যদি দেখেন বন্ধুরা অধিকাংশই বিদেশি তাহলে অবশ্যই মানুষটা সন্দেহ জনক।

৪। মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখুনঃ মিউচুয়াল ফ্রেন্ডে চেনা বন্ধু থাকলেও সতর্ক থাকুন। চেনা বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করুন যে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে তাকে চেনেন কিনা? বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পেলে তবেই অ্যাড করুন।

৫। ছবি খুঁটিয়ে দেখুনঃ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর, পরিবারের সঙ্গে ছবি রয়েছে? কেউকি এ ব্যক্তিকে ট্যাগ করেছে? করে থাকলে তাদের প্রোফাইল কী বলছে? ছবিগুলো কি সন্দেহ জনক? প্রোফাইলে কি অত্যন্ত হ্যান্ডসাম কোন যুবক বা সুন্দরী মহিলার ছবি? নাকি ছবি নেই? এমনটা হলে সতর্ক থাকুন।

৬। পোস্ট গুলো দেখুনঃ ঠিক কী ধরনের জিনিস পোস্ট করেন ইনি? অধিকাংশই কি কোনো ছবি বা কোটেশন? কোন মৌলিক পোস্ট রয়েছে কিনা খুঁটিয়ে দেখুন। যদি থাকে তবে তা নিয়ে বন্ধুরা মন্তব্য করেছেন কিনা, লাইক করেছেন কিনা, শেয়ার করেছেন কিনা অবশ্যই দেখেনিন।

৭। অ্যাড করা ফ্রেন্ড কি করছে লক্ষ্য করুন যদি ইতোমধ্যে অ্যাড করে থাকেন তবে খেয়াল রাখুন কী বলছেন সেই দিকে। কথা বার্তা কি অসঙ্গত? নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেন নাকি একেবারেই দেননা? এই দুটোই কিন্তু সন্দেহ জনক। সন্দেহ হলে পাল্টা প্রশ্ন করুন।

৮। ফোন নম্বর– অল্প আলাপেই নিজের ফোন নম্বর, ইমেল অ্যাড্রেস দিয়ে দেবেন না। যদি দেখেন প্রথম দিনই ইনি আপনার নম্বর চাইছেন, দেখা করতে চাইছেন তবে অবশ্যই সতর্ক হোন।

৯। প্রেম– যদি দেখেন শুরু থেকেই আপনার প্রতি ভালোলাগা প্রকাশ করেন বা প্রেম নিবেদন করেন তাহলে নির্দ্বিধায় এনাকে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বাদ দিন। ফেক প্রোফাইল থেকে এ ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই আসে।

১০। অশালীন প্রস্তাব– এমনটা হলে অবিলম্বে ব্লক করুন। যদি চ্যাট করতে করতে আপনাকে ছবি পাঠাতে বলেন তাহলে বুঝবেন মানুষটি বিপজ্জনক। এদের ব্লক করে রাখাই ভাল।

সূত্র- বাংলাদেশ পুলিশ ফেইসবুক পেইজ