বিয়ে না করে সন্তানের বাবা হয়েছিলেন আমির খান!

বলিউড নায়ক নায়িকা সম্পর্কে জানার আগ্রহ পাঠকের সবসময়ই বেশি। তারা কী খেতে পছন্দ করেন, কোথায় যেতে পছন্দ করেন, কে কোন সিনেমায় কাজ করছেন, কার সঙ্গে কার প্রেম চলছে এই ধরণের তথ্য গুলো থেকে পাঠককে কখনই দূরে রাখা যায় না। তবে এইসবের মধ্যেও এমন কিছু তথ্য আছে বলিউড তারকাদের নিয়ে, যার কোন হদিস এখনো মেলেনি।
এরই মধ্যে অজানা কিছু ঘটনা আজ জানবো-

আমির খান ও জেসিকা হাইনস

অনেকদিন পরে এসে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে জানা গিয়েছে বলিউডে ‘মি. পারফেকশনিস্ট’খ্যাত আমির খান ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়ান।

এছাড়াও সেই সম্পর্কের এক জলন্ত প্রমাণও মেলে একটি ছেলে সন্তানের জন্মের মধ্য দিয়ে। আমির ও জেসিকার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ‘গোলাম’ ছবির সেটে। তারপর থেকেই তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।

আরো জানা গেছে, আমির খান তার এই সম্পর্কটি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। সে জন্য সন্তানটির গর্ভপাতও করতে বলেছিলেন। কিন্তু জেসিকা হাইনস তা মেনে নেয়নি এবং জান নামে একটি ছেলের জন্মও দেন তিনি।

হৃতিক রোশন ও কারিনা কাপুর

এই বলিউড দুই তারকার অভিষেক ঘটেছিল ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমাটির মাধ্যমে। তাদের মধ্যে সম্পর্কের শুরু হয় সুভাষ ঘাইয়ের ‘ইয়াদে’ ছবির কাজ করতে গিয়ে।

এছাড়াও ‘ইয়াদে’ এবং ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমার পাশাপাশি তারা একসঙ্গে আরো জুটি বেঁধেছিলেন ‘মুজছে দোস্তি কারোগি’ ও ‘মে প্রেম কি দিওয়ানি হো’ ছবিতে।

এরপর হৃতিক ও কারিনার প্রেম এবং বিচ্ছেদের কাহিনী এখনো বলিউডের একটি রহস্য হয়ে আছে।

শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া

এই তালিকা থেকে বলিউডের ‘কিং খান’খ্যাত শাহরুখ খানও বাঁচতে পারেননি। জানা যায়, প্রিয়াংকা চোপড়া ও তিনি নাকি একসময় খুব বেশি কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। এমনকি তাদের এই গোপন প্রেম নিয়ে কিছু মিডিয়াতে বেশ লেখালেখিও হয়েছিল ওই সময়।

তাছাড়া সেই সময় নাকি, শাহরুখ খান প্রিয়াংকার ওপর বিশেষ এক মনোযোগ দিতেন। এবং বিভিন্ন প্রযোজকের কাছেও এই নায়িকার ব্যাপারে সুপারিশ করতেন।

অমিতাভ বচ্চন ও রেখা

মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন ও এভারগ্রিন রেখা। নাম দুটি শুনলেই সবার মনে পড়ে যায় তাদের আলোচিত সব সুপার হিট ছবির কথা।

তাদেরও প্রেমের সূত্রপাত ঘটেছিল ‘দু আনজানে’ সিনেমার সেটে। তাদের মধ্যে এই সম্পর্কের ঘটনা নজরে আসে ‘গঙ্গা কি সুগন্ধ’ ছবির সেটে। সেখানে রেখার সঙ্গে ঝামেলা করার জন্য এক সহ-অভিনেতার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন অমিতাভ।

পরে আরো শোনা যায়, রেখা তাকে (অমিতাভ) বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এর ফলে তার জীবনে অন্য কোন নারীকে সহ্য করতে পারছিলেন না রেখা। কিন্তু অমিতাভ যখন দেখলেন তাদের সম্পর্কের কোন ভবিষ্যত নেই তখন সরে আসেন।

রাভিনা টেন্ডন ও অক্ষয় কুমার

বলিউডে নব্বইয়ের দশকের প্রেমকাহিনী গুলো দর্শকদের বেশ জানা। সেই সময় ‘মোহরা’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে রাভিনা ও অক্ষয় বেশ কাছাকাছি চলে আসেন।

পরবর্তীতে রাভিনা নিজেই এটা স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে নাকি গোপনে মন্দিরে গিয়ে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু অক্ষয়ের স্বভাবের কারণে সম্পর্কটা আর মেনে নিতে পারেনি রাভিনা।

গোবিন্দ ও রানি মুখার্জি

এক সময় গোবিন্দ ও রানি মুখার্জিকে একসঙ্গে বেশ কিছু রোমান্টিক ছবিতে কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে প্রথম প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় ‘হাদ কারদি আপনে’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে।

তাদের সম্পর্কটা এতই গভীরে চলে গিয়েছিল যে, গোবিন্দের স্ত্রী সুনিতা তার বাচ্চাদের নিয়ে ঘর থেকে চলে গিয়েছিলেন।

এমনকি ভারতের কিছু পত্রিকায় গোবিন্দ ও রানি মুখার্জির বিয়ের খবরও প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু কোনো এক কারণে সম্পর্কটা আর টেকেনি।

মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবী

‘ডিসকো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তী ও বলিউড ডিবা শ্রীদেবীর একসময় গভীর প্রেম ছিল। তারা নাকি ১৯৮৫ সালে গোপনে বিয়েও করেছিলেন। শ্রীদেবী প্রথম মিঠুনের প্রেমে পড়েছিল যখন তারা রাকেশ রোশনের ‘জাগ উঠা ইনসান’ ছবিতে অভিনয় করেন।

তবে তাদের বিচ্ছেদ হয় ১৯৮৮ সালে। ওই সময় শ্রীদেবী জানতে পারেন, মিঠুন তার স্ত্রী যোগিতাকে কখনই ছাড়বেন না এমনকি তার মনে কষ্টও দেবেন না।

দিলীপ কুমার ও মধুবালা

দিলীপ কুমার ও মধুবালা। তাদের মধ্যেও গোপন প্রেম হয় ‘মুঘল ই আজম’ ছবির কাজ করতে গিয়ে।

এরপর তাদের সম্পর্কের কথা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তারা হাতে হাত রেখে ‘ইনসানিয়াত’ মুভির প্রিমিয়ারে যান। পরে তারা দুজনই আলাদা হয়ে যান যখন মধুবালার বাবা এ সম্পর্কটা মেনে নেয়নি।

নার্গিস ও রাজ কাপুর

সাধারনত বলা হয়ে থাকে রাজ কাপুরের প্রেমে নাকি পাগল ছিলেন নার্গিস। পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের প্রেমের গল্প আলোচিত ছিল।

তবে সেই সময় রাজ কাপুর ছিলেন একজন বিবাহিত। আবার তিনি নার্গিসকেও ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু ওই সময় নার্গিসেরও মন ভেঙে যায় যখন সে জানতে পারেন, রাজ কাপুর বিবাহিত।

এই নিয়ে নার্গিস নাকি সুইসাইড করারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় তার জীবনে আবির্ভাব হয় সুনীল দত্তের।

দেব আনন্দ ও সুরাইয়া

বলিউডে দেব আনন্দের অভিষেক হয় ১৯৪৫ সালে। এরপর তার প্রেমের যাদুতে বশ করে ফেলেছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুরাইয়াকে।

তবে তাদের এই আলোচিত প্রেম বেশিদিন স্থায়ী ছিল না। এবং তারা কখনই এই সম্পর্কের গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। কারণ সুরাইয়ার দাদি সম্পর্কটি মেনে নিতে পারেননি।