২০, আগস্ট, ২০১৮, সোমবার

ধরা ছোঁয়ার বাইরে আলোচিত তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের আসামিরা

চট্টগ্রাম নগরীর সানসাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলার পাঁচ আসামি এখনও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত ৩ মে প্রধান আসামি আদনান মির্জাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালত নির্দেশ দিলে ও সেভ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে গতকাল। উদ্ধার হয়নি তাসফিয়াকে বহনকারী অটোরিকশা। ধরা পড়েনি চালকও। এ হত্যাকাণ্ডের ১৩ দিন পার হলেও আসামিরা ধরা না পড়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাসফিয়ার পরিবার। তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আদনান ছাড়া কোন আসামিকেই গ্রেফতার করতে পারিনি। আবার তার কাছ এ পর্যন্ত কোন তথ্য উদঘাটন ও হয়নি। পুলিশ শুধু আশ্বাসই দিচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ কিছু করছে না। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারি কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তাদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের প্রত্যেকটি অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি বলেই তাসফিয়ার পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, তাসফিয়া আমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের খুব কাছাকাছি। শিগগিরই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের কারণ সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবশ্যই বিচার হবে। এ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। যে কোনো অনুসন্ধান শেষ হতে একটু সময় লাগে। মাঝপথে খোলাসা করলে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয় না। তাই আমরা একটু সময় নিয়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে চাই। জানা যায়, তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পরদিন ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। শুরুতে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত আদনান মির্জাকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে এ মামলার অভিযুক্ত ফিরোজসহ অন্যান্য আসামিদের উপর রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার আর্শিবাদ। তাই তাদের গ্রেফতারের অনিহা পুলিশের। এই মামলার ষষ্ঠ নম্বর আসামি ফিরোজ। আর প্রধান আসামি আদনান মির্জা। আদনান মির্জা ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংয়ের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চারজন তার সেই গ্যাংয়ের সদস্য। ফিরোজ অস্ত্রসহ একধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। অপর তিন আসামি হলো- সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ ও আসিফ মিজান এবং আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম।